গ্রীষ্মকালে বাংলাদেশে তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রির উপরে উঠে যায় এবং অনেক সময় ৩৫-৩৭ ডিগ্রি পর্যন্ত পৌঁছে। এই তীব্র গরমে শিশুরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পায়। বড়রা কোনোমতে মানিয়ে নিলেও ছোট্ট শিশুদের শরীর তাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না ভালোভাবে। ফলে ডায়রিয়া, পানিশূন্যতা, ঘামাচি, চর্মরোগ, এমনকি সর্দি-কাশি ও নিউমোনিয়ার মতো রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
এই সময় শিশুর খাবারের প্রতি আগ্রহ কমে যায়, খাবারের রুটিনে গরমিল হয়ে যায়। তাই বাবা-মায়ের উদ্বেগের শেষ থাকে না। এই ব্লগে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করবো গরমে শিশুর খাবার, সহজপাচ্য খাদ্যতালিকা এবং শিশুর যত্নের টিপস নিয়ে।
গরমে শিশুর খাবার কেমন হওয়া উচিত? (শিশুর খাদ্যতালিকা গ্রীষ্মকালে)
৬ মাসের কম বয়সী নবজাতক ও শিশুর খাবার
- শুধুমাত্র মায়ের বুকের দুধ (Breast Milk) যতটা সম্ভব খাওয়ান।
- জরুরি অবস্থা ছাড়া ফর্মুলা মিল্ক বা কৌটার দুধ একেবারে এড়িয়ে চলুন।
- বুকের দুধ শিশুকে হাইড্রেটেড রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
৬ মাসের বেশি বয়সী শিশুর জন্য গরমকালীন খাবারের নিয়ম
গরমে শিশুর খাবার হতে হবে হালকা, সহজপাচ্য এবং সংক্রমণমুক্ত। নিচের টিপসগুলো মাথায় রাখুন:
- সহজ হজমযোগ্য খাবার দিন
- নরম সেদ্ধ ভাত বা জাউ ভাত
- কম তেল-মসলায় রান্না করা সবজি (লাউ, পেঁপে, ঝিঙ্গা, শশা, চালকুমড়া)
- পাতলা মাছের ঝোল বা মুরগির স্যুপ
- এড়িয়ে চলুন এই খাবারগুলো
- বাসি খাবার
- বাইরের রাস্তার খাবার
- ভাজা-পোড়া খাবার
- প্যাকেটজাত খাবার (চিপস, চকলেট, বিস্কুট, আচার)
- প্রচুর পরিমাণে তরল ও ফল দিন
- ডাবের পানি (সবচেয়ে উপকারী)
- লেবুর শরবত (চিনি কম দিয়ে)
- তরমুজ, পেঁপে, আম, জাম, জামরুল, শশা
- দই-চিড়া-কলা (বড় শিশুদের জন্য চমৎকার)
- পানি ও হাইড্রেশন
- ফিল্টার করা পানি বা সেদ্ধ পানি খাওয়ান
- ফ্রিজের ঠান্ডা পানি সরাসরি এড়ান
- শিশুর প্রস্রাবের রং হালকা হলুদ থাকা উচিত (পানিশূন্যতার লক্ষণ নয়)
প্রচণ্ড গরমে শিশুর বিশেষ যত্নের টিপস
১. পরিবেশ ও ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ
- যে ঘরে তাপমাত্রা তুলনামূলক কম, সেখানে শিশুকে রাখুন।
- এসি থাকলে ২৪-২৬ ডিগ্রির মধ্যে রাখুন (খুব ঠান্ডা না হয়)।
- পাখা ব্যবহার করুন, কিন্তু সরাসরি শিশুর উপর না লাগান।
২. গোসল ও শরীর পরিষ্কার রাখা
- দিনে ১-২ বার হালকা গোসল করান।
- বেশি ঘামলে নরম সুতির কাপড় দিয়ে গা-মাথা মুছে দিন।
- ঘামাচি এড়াতে সারাদিন শুকনো রাখুন।
৩. পোশাক ও ত্বকের যত্ন
- হালকা রঙের সুতি কাপড় পরান।
- টাইট কাপড় এড়ান, যাতে ঘামাচি ও র্যাশ না হয়।
- বাইরে যাওয়ার সময় শিশুদের জন্য উপযোগী সানস্ক্রিন, ছাতা ও পানির বোতল নিন।
৪. স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ
- প্রস্রাব কম হচ্ছে কি না খেয়াল রাখুন (দিনে ৫-৬ বার হওয়া উচিত)।
- খাবারের পর খেলার ফাঁকে ফাঁকে পানি খাওয়ান।
- কোনো অসুস্থতা দেখা দিলে দ্রুত শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
সারসংক্ষেপ
গ্রীষ্মের এই তীব্র গরমে শিশুকে সুস্থ রাখতে চাইলে হাইড্রেশন, সহজপাচ্য খাবার এবং পরিচ্ছন্নতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মৌসুমি ফল, ডাবের পানি, বুকের দুধ ও হালকা সবজির ঝোল দিয়ে শিশুর রুটিন সাজান।
এই টিপসগুলো মেনে চললে আশা করি আপনার সোনামণি গরমেও থাকবে হাসিখুশি ও সুস্থ।
আপনার শিশুর গরমকালীন যত্নে আর কোন টিপস আছে? কমেন্টে জানান! সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। 🌞👶
